electric-scooter-vs-motorcycle

electric scooter vs motor bike which to buy

কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য একেকজন একেকরকমের পরিবহণ সুবিধা উপভোগ করে। বর্তমানে ইলেকট্রিক স্কুটারের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাবার কারণে মানুষের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সুবিধা ও বেড়ে গেছে। যারা মোটরসাইকেল চালাতে অভ্যস্ত তাদের জন্য মোটরসাইকেল ও বেশ সুবিধাজনক। আবার ইলেকট্রিক স্কুটার বর্তমানে তরুণরা পছন্দ করছে তার কারণ হলো মোটরসাইকেলের দাম এর থেকেও ইলেকট্রিক স্কুটার এর দাম অনেক সস্তা তাই এটি তরুণদের পছন্দের শীর্ষে। যাইহোক আজকের আর্টিকেলে আমরা ইলেকট্রিক স্কুটার নাকি মোটরসাইকেল কোনটি কিনবেন এ নিয়ে কিছু কথা বলবো। আসলে আপনি কোন পরিবহন ব্যবস্থা পছন্দ করেন সেটা পুরোপুরি আপনার উপর। আমরা শুধু আপনাকে দুটোর সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরবো। ব্যক্তিগত পছন্দ কিন্তু আপনারই থাকবে। চলুন তাহলে ইলেকট্রিক স্কুটার এবং মোটরসাইকেলের সুবিধা অসুবিধা একটু দেখে নিই।

প্রথমেই দেখা যাক ইলেকট্রিক স্কুটার এবং মোটরসাইকেলের পার্থক্য কোথায়?

যদি মোটরসাইকেলের কথা বলি তাহলে বলতে হবে যে মোটরসাইকেল চালানো একটু কঠিন কাজ সাধারণত মোটরসাইকেল অনেক ভারী হয় যে কেউ এটা সহজে হ্যান্ডেল করতে পারে না। কিন্তু মোটরসাইকেলের স্পিড কিন্তু বেশ ভালো যেকোনো জায়গায় খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হয়। আবার ইলেকট্রিক স্কুটার চার্জ এর সাহায্যে চলে, চালানো খুব কঠিন না। এটা সহজে হ্যান্ডেল করা যায় কারণ এটা অনেক হালকা । ইলেকট্রিক স্কুটার এর গতি সর্বোচ্চ ১৫ এমপিএইচ থেকে ৪০ এমপিএইচ পর্যন্ত। কিন্তু সবার আগে যেটা প্রয়োজন তা হল আপনি কোনটিতে সেফ এবং আপনি কোনটি ভালো ড্রাইভ করতে পারবেন। 

চালানো সহজঃ

প্রথমেই মোটরসাইকেলের কথায় আসি, মোটরসাইকেল চালানো সহজ নয় এবং এটা চালানো শিখতে কমপক্ষে ১৫থেকে ২৫ দিন সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে ইলেকট্রিক স্কুটার চালানো  অনেক সহজ। ইলেকট্রিক স্কুটার চালানো শিখতে ২ থেকে ৩ ঘন্টা সময়ই যথেষ্ট।

ইঞ্জিন সাইজঃ

বেশিরভাগ মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন সাইজ ১৫০ সিসি থেকে ২০০০সিসি পর্যন্ত হয়। অন্যদিকে বেশিরভাগ ইলেকট্রিক স্কুটার এর মোটর ৫০সিসি থেকে ২৫০ সিসি পর্যন্ত।

সর্বোচ্চ গতিঃ

কিছু কিছু জনপ্রিয় মোটরসাইকেলের স্পিড ১১০ এমপিএইচ। আবার কিছু কিছু ভালো ব্রান্ডের ইলেকট্রিক স্কুটার সর্বোচ্চ  ৪০ এমপিএইচ গতিতে চলতে পারে।

চাকার সাইজঃ

নিঃসন্দেহে মোটরসাইকেলের চাকার সাইজ অনেক বড় হয় অন্যদিকে ইলেকট্রিক স্কুটার এর চাকার সাইজ ছোট হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্সঃ

মোটরসাইকেল  চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স এর দরকার হয়। বাংলাদেশ লাইসেন্স বিহীন মোটরসাইকেল পুলিশ রাস্তায় নামাতে দেয় না। অন্যদিকে ইলেকট্রিক স্কুটার চালানোর জন্য কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স এর দরকার পড়ে না। 

জ্যাম থেকে রক্ষা পেতেঃ

আমরা সবাই জানি ট্র্যাফিক জ্যাম বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যার মধ্যে একটা। তাই ট্রাফিক জ্যাম থেকে রক্ষা পেতে ইলেকট্রিক স্কুটার অনেক বড় একটা সহায়ক কারণ ইলেকট্রিক স্কুটার দেখতে অনেক পাতলা তাই জ্যামে আটকে থাকা গাড়ির ফাঁক দিয়ে বেশ অনায়াসে বের হওয়া যায় এবং জ্যাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।  অন্যদিকে মোটরসাইকেলের সাইজ একটু বড় হয় তাই এগুলো কে জ্যাম থেকে বের হতে অনেক বেগ পেতে হয়।

প্রাইস রেঞ্জঃ

মোটরসাইকেলের প্রাইস রেঞ্জ অনেক বেশি বিশেষ করে ভালো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল এক থেকে আড়াই লাখ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। অন্যদিকে ইলেকট্রিক স্কুটারের প্রাইস রেঞ্জ অনেক কম। ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় অনেক দামি ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক স্কুটার পাওয়া যায়। 

স্টোরিজ সুবিধাঃ

ইলেকট্রিক স্কুটার গুলোর স্টোরেজ সুবিধা অনেক বেশি। যেহেতু এগুলো ভাঁজ করে রাখা যায় সেহেতু আপনি এটাকে আপনার ইচ্ছা মত জায়গায় রাখতে পারবেন। কিন্তু মোটরসাইকেল কে যেহেতু ভাঁজ করা যায় না তাই গ্যারেজ ছাড়া বা মোটামুটি বড় জায়গা ছাড়া এটাকে রাখা যায় না। তাছাড়া ইলেকট্রিক স্কুটারকে ভাঁজ করে গাড়িতে করে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যায় যেটা মোটরসাইকেল কে মোটেই করা সম্ভব না।

চালকের সুরক্ষাঃ

যেহেতু সুরক্ষাকে সবার আগে দেখতে হবে তাই মোটরসাইকেল চালানোর জন্য হেলমেট অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। অন্যদিকে ইলেকট্রিক স্কুটার বাচ্চারা যখন চালাবে তখন অবশ্যই হেলমেট, গ্লাভস ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বড়দের ক্ষেত্রে তেমন ঝুঁকি নেই কিন্তু তারপরও হেলমেট ব্যবহার করার জন্য সচেতন থাকতে হবে।

আরামদায়কঃ

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, ইলেকট্রিক স্কুটার যেহেতু বেশিরভাগই দাঁড়িয়ে চালাতে হয় সেক্ষেত্রে এটি মেয়েদের চালানোর জন্য বেশ আরামদায়ক। বসে চালানোর চেয়ে দাঁড়িয়ে চালানো স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো। দাঁড়িয়ে চালালে অনেক শক্তি খরচ হয় এতে ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকে। আবার অন্যদিকে মোটরসাইকেল যারা চালায় তাদের বেশীরভাগেরই  মেদ ভুড়ি বেড়ে যায় কারণ মোটরসাইকেল বসে চালানোর জন্য দেহের কোন শক্তি খরচ হয় না।

ট্রাফিক রুলসঃ

মোটরসাইকেল চালাতে ট্রাফিক রুলস অবশ্যই মেনে চলতে হয়। অন্যদিকে ইলেকট্রিক স্কুটারের জন্য তেমন কোন ট্রাফিক রুলস মানতে হয় না। আপনি রোডের এক সাইড থেকে যেমন চলতে পারেন তেমনি ইলেকট্রিক স্কুটার একদিক দিয়ে চালিয়ে যাওয়া যায়।

সবশেষে, ইলেকট্রিক স্কুটার এবং মোটরসাইকেলের আলাদা আলাদা সব সুবিধা আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইলেকট্রিক স্কুটার পছন্দ করি কারণ এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়া খুব মুশকিল হয় সেক্ষেত্রে ইলেকট্রিক স্কুটার বেশি সুবিধাজনক। প্রত্যেকের নিজের পছন্দ আছে। যে যেটা পছন্দ করে সেটা অবশ্যই কিনবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি ইলেকট্রিক স্কুটার কিনেন কিংবা মোটরসাইকেল কিনেন, আপনার সুবিধা মত এবং সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই কিনবেন। কারণ আপনার সুরক্ষা আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *