electric-scooter-buying-guide

Electric Scooter buying guideline

পৃথিবীতে বর্তমানে শহরগুলোতে ব্যস্ততা ক্রমশ বেড়েই চলছে। দ্রুত কোন জায়গা পৌঁছানোর সবচেয়ে বড় বাধা হলো ট্রাফিক জ্যাম। এই জ্যাম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বড় বড় শহরগুলোর লোকজন ইলেকট্রিক স্কুটার গুলোর প্রতি বর্তমানে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যেহেতু ব্যক্তিগত গাড়ি গুলো অনেক সময় ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি করে তাই ইলেকট্রিক স্কুটার গুলো হতে পারে পরিবহনের জন্য চমৎকার মাধ্যম। তাই অনেকেই গাড়ির বদলে স্কুটার কিনতে চায়। আজকের আর্টিকেলে স্কুটার কেনার গাইডলাইন সম্পর্কে জানা যাবে। তুলনামূলকভাবে স্কুটারগুলোর মেইনটেনিং খরচ অনেক কম তাছাড়া এগুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ। এগুলো খুব সহজে ভাঁজ করে গাড়ির পিছনে, গ্যারেজে রাখা যায়। লোকজনের চাহিদার কথা ভেবে অনেক কোম্পানি এখন ইলেকট্রিক স্কুটার গুলো তৈরি করছে। বাজারে অনেক দামি ব্র্যান্ডের স্কুটার আছে এবং কম দামের ও স্কুটার আছে। তাই আপনি যদি স্কুটার কিনতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই কেনার আগে জানতে হবে ইলেকট্রিক স্কুটার এর কার্যক্ষমতা, আরামদায়ক হবে কি না? কেমন রাস্তায় এগুলো চালাতে হয় ইত্যাদি। তাই আশা করি আর্টিকেলটি পড়লে আপনার এগুলো সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা তৈরি হয়ে যাবে। চলুন তাহলে দেখে নেই ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার আগে কোন বিষয়গুলো মাথায় রেখে কিনতে হবে।

ইলেকট্রিক স্কুটার এর ধরন এবং কি দিয়ে তৈরিঃ

যখন আপনি কোন ইলেকট্রিক স্কুটার কিনবেন আপনি অবশ্যই চাইবেন এটা যেন সব পরিস্থিতিতে ভালো কাজ করে এবং নষ্ট যেন না হয়। বেশিরভাগ স্কুটারই অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি। এটা অত্যন্ত ভালো একটি উপকরণ। যদি পুরো স্কুটারের ফ্রেমটা অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি হয় তাহলে এটা ভারী হয়। কিন্তু যদি অ্যালুমিনিয়াম এবং অন্যান্য উপাদান দিয়ে মিক্স করে তৈরি হয় যেমন কার্বন ফাইবার,কেভিয়ার এবং ম্যাগনেসিয়াম তাহলে এগুলো অনেকদিন ব্যবহার করা যায় এবং ওজনও হালকা হয়। তাই ই-স্কুটার কেনার আগে উপকরণগুলো কিসের তা জানা প্রয়োজন।

ইলেকট্রিক স্কুটার এর পারফরম্যান্স বা কর্মক্ষমতাঃ

ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার সময় সবার আগে দেখতে হবে যে এটা কেমন কার্যক্ষমতা সম্পন্ন। আপনি আপনার টাকা খরচ করে যে নতুন একটা স্কুটার কিনলেন কয়দিন পর তা খারাপ হয়ে যাবে এটা নিশ্চয়ই আপনি চাইবেন না। তাই কেনার আগে যে জিনিস মাথায় রাখতে হবে তা হল স্কুটার এর স্পিড, ব্যাটারি পাওয়া্‌র, রেঞ্জ ইত্যাদি। আসুন এসব বিষয়ে একটু বিশদ জেনে নিই।

স্পিডঃ স্কুটার কেনার আগে এটা কত স্প্রিডে যেতে পারে এসব নিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে স্কুটার এর স্পিড নির্ভর করে এর মোটর পাওয়ার এর উপর তাছাড়া রাইডারের ওজন, টায়ার কতটুকু বায়ু পূর্ণ এবং ভালো রাস্তার উপর। একজন ৭০ কেজি ওজনের লোকের জন্য প্রয়োজন একটি ফ্ল্যাট স্কুটার, ভালো রাস্তা এবং স্কুটারের চাকা পরিপূর্ণ বাতাসযুক্ত। স্কুটারের স্পিড এর ক্ষেত্রে ১৫ এমপিএইচ হল আদর্শ এর বেশি না হওয়াই ভালো।সাধারণত স্কুটার গুলো ৪০ এমপিএইচ এর বেশি হয় না। যদি ভালো রাস্তার উপর দিয়ে চালানো হয় এবং ব্যক্তির ওজন যদি কম থাকে তাহলে ইলেকট্রিক স্কুটার গুলো চলাচলের জন্য অতি উত্তম।

ব্যাটারি পাওয়ারঃ স্কুটার এর সর্বনিম্ন ব্যাটারি পাওয়ার হল ২৫০ ওয়াট এবং সর্বোচ্চ ৬৭২০ ওয়াট। আবার কিছু কিছু ইলেকট্রিক স্কুটার এর ব্যাটারি পাওয়ার থাকে ৫০০ ওয়াট এবং ২০০০ ওয়াট পর্যন্ত। একটা কথা না বললেই নয় শক্তিশালী ব্যাটারি গুলোর দরকার পড়ে যদি আপনি অনেক দূরে ট্রাভেল করেন এবং পাহাড়ের মতো রাস্তায় চলতে চান কিংবা খুব দ্রুত আপনার গন্তব্যে পৌঁছানো দরকার যেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়।

রেঞ্জ বা পরিসরঃ রেঞ্জ এর ক্ষেত্রে যেটা চিন্তা করা প্রয়োজন তা হলো স্কুটার ব্যবহার করবেন কিভাবে ? এক্ষেত্রে আপনার গন্তব্য যদি দূরে হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই বড় ব্যাটারির ই- স্কুটার কিনতে হবে। অবশ্যই বড় ব্যাটারির স্কুটার গুলোর দাম একটু বেশি এবং একটু ভারী হয়। আবার আপনি যদি সপ্তাহের শেষে কাছাকাছি কোন জায়গায় ঘুরতে যান তাহলে আপনার বেশি রেঞ্জের স্কুটার দরকার নেই। স্কুটারের রেঞ্জ নির্ভর করে রাইডার এর ওজন, সারফেস কোয়ালিটি এবং স্পিড এর উপর।

ইলেকট্রিক স্কুটার আরামদায়ক হবে কি নাঃ

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে ইলেকট্রিক স্কুটার চালানো অবশ্যই আরামের। এটা চালাতে গেলে হাতে কোন ব্যথা হয় না যতক্ষণ চালাবেন রিলাক্স মুডে চালাতে পারবেন। অবশ্যই আরামদায়ক খোঁজার জন্য কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে যেমন-

চাকাঃ স্কুটার কেনার সময় চাকার বিষয়টি বেশি খেয়াল রাখা প্রয়োজন কারণ এবড়ো থেবড়ো রাস্তায় এটি চালাতে কখনোই আরামদায়ক হবে না। স্কুটার এর চাকার ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট টায়ার আপনাকে আরামদায়ক রাইডিং দিতে পারে কারণ এগুলো বেশি রক্ষণাবেক্ষণের দরকার পড়ে না। তবে অবশ্যই ৮ ইঞ্চির কম চাকাযুক্ত স্কুটার না কেনাই ভালো। টায়ারগুলো অবশ্যই বায়ু পূর্ণ হতে হবে তবেই এটাতে চড়তে আপনার আরাম লাগবে। যেহেতু স্কুটারের টায়ার পাংচার হলে সেটা সারিয়ে তোলা বেশ কঠিন তাই পাংচার প্রোটেকশন ফ্লুয়িড ব্যবহার করতে হবে।

সাসপেনশনঃ সাসপেনশন বিহিন টায়ার আপনার স্কুটার কে ভালোভাবে চলতে দিবে না। তাই স্কুটার কেনার আগে সাসপেনশন কেমন তা দেখে কিনবেন।

ইলেকট্রিক স্কুটারের ব্রেকঃ

ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার সময় বা আপনার সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে সবচেয়ে আগে। এটার ৩ ধরনের ব্রেকস থাকে।

ইলেকট্রিক ব্রেকঃ ইলেকট্রিক ব্রেক গুলোর জন্য বেশি রক্ষণাবেক্ষণের দরকার হয় না আর এটা দিয়ে আপনার স্কুটারকে খুব সহজে থামাতে পারবেন।

ডিস্ক ব্রে্ক এবং ড্রাম ব্রেকঃ দুটো অনেক ভালো মানের ব্রেকস কিন্তু এগুলোর খুব যত্ন নিতে হয় যেমন কারের ব্রেকস।

ফুট ব্রেকঃ কাদাযুক্ত জায়গায় থামার জন্য ফুট ব্রেকস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত বাচ্চাদের স্কুটার গুলোতে এ ধরনের ব্রেক থাকে।

ইলেকট্রিক স্কুটারের ওয়েট এবং সাইজঃ

ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার আগে অবশ্যই স্কুটারের ওয়েট এবং সাইজ সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। যদি আপনি আপনার জন্য একটা আরামদায়ক স্কুটার চান তাহলে এই দুটো ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। আপনাকে একটা বিষয় চিন্তা করতে হবে যে আপনি কি একটা বড় সাইজের স্কুটার কন্ট্রোল করতে পারবেন? আবার আপনার পা কি ফিট হবে স্কুটারের বোর্ডের উপর? একই প্রশ্ন স্কুটারের ওয়েট নিয়েও হতে পারে। আপনি যেখানে থাকেন সেখানে কি লিফট আছে না সিঁড়ি ব্যবহার করতে হয়? যদি বেশি ওজনের স্কুটার ব্যবহার করেন তাহলে তা ক্যারি করতে পারবেন কি না? এটাকে ভাঁজ করা যায় কি না ইত্যাদি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তবে সাইজ এর ক্ষেত্রে ৩ টি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা হল

  • বারের উচ্চতা এবং প্রশস্ততা
  • ডেক সাইজ
  • ভাঁজ করার পর সাইজ কেমন হবে ইত্যাদি

ইলেকট্রিক স্কুটার রাইডিং এর জন্য প্রয়োজনীয় যেসব জিনিসঃ

হেলমেটঃ এটি যেহেতু বাইসাইকেলের চেয়ে দ্রুত গতিতে চলে তাই চালানোর সময় হেলমেট পড়া খুব জরুরী।

তালাঃ এটি একটা দামী জিনিস তাই এটাকে অবশ্যই তালা দিয়ে রাখতে হবে তা না হলে চুরি হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ফোন কেসঃ স্কুটারে আপনি যদি কোনো অজানা জায়গায় ট্রাভেল করেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই গুগল ম্যাপ দেখে যেতে হবে তাই একটা ফোন কেস বা হোল্ডার রাখা জরুরী যাতে চালানোর সময় মনোযোগ নষ্ট হয়ে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

পাংচার প্রোটেকশন ফ্লুইদঃ আপনার স্কুটার এর যদি বায়ুপূর্ণ টায়ার হয় তাহলে আপনাকে অবশ্যই পাংচার প্রোডাকশন ফ্লুয়িড সাথে রাখা প্রয়োজন যাতে পাংচার না হয়।

লাইটসঃ স্কুটার এর জন্য অতিরিক্ত লাইট লাগিয়ে নিতে পারেন যাতে রাতের বেলায় চলাচল করতে সুবিধা হয়।

ইলেকট্রিক স্কুটার এর চার্জের সময়ঃ

বাজারে বেশিরভাগ যে ইলেকট্রিক স্কুটার গুলো পাওয়া যায় সেগুলো ১৫-২৫ কিলোমিটার যেতে পারে একবার চার্জ দিলে। তবে কেনার সময় অবশ্যই দেখতে হবে যে লো ক্যাপাসিটি্র ব্যাটারি যেন না হয়। বাজারে সাধারণত স্কুটার ৪-৫ ঘন্টা সময় চার্জ লাগে এমন সব স্কুটার বেশি পাওয়া যায় তাই জেনে বুঝে কিনতে হবে।

পরিশেষে, আশাকরি ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার গাইডলাইন টি আপনাদের সহায়তা করবে। বাংলাদেশে যেহেতু এগুলোর প্রোডাকশন নেই তাই এগুলো কেনার জন্য আমাদের সাহায্য নিতে হয় ইন্টারনেট থেকে। কম্পিউটারে এক ক্লিক করলেই কেনা যায়। এগুলো ধরে দেখে কেনার সুযোগ নেই তাই এই গাইডলাইনটি আপনাদের সাহায্য করবে। কেনার সময় সব ডিটেলইস পরীক্ষা করে তারপর অর্ডার করবেন। আপনাদের উপকারে আসলে তবেই লেখাটি সার্থক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *